হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা আখতার আলী 'রোজার মাহাত্ম্য: ইবাদত ও আত্মসংযমের মাস' এই বিষয় সম্পর্কে ভাবে আলোচনা করেছেন তিনি বলেন,
ইবাদতের মাধ্যমে আত্মিক উন্নতি
রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। প্রতিদিনের রোজার সঙ্গে নিয়মিত নামাজ, কোরআন পাঠ, দোয়া এবং স্মরণীয় ইবাদত (যিকর) মুসলিমের হৃদয়কে আলোকিত করে। এই ইবাদত মানুষকে আত্মিক প্রশান্তি দেয় এবং তার মনকে আল্লাহর নৈকট্যের প্রতি নিবেদিত করে। বিশেষ করে লাইলাতুল কদর ও অন্যান্য রোজার রাতে ইবাদত মুসলিমের জীবনে আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি করে।
আত্মসংযম ও ধৈর্য্যচর্চা
রোজা কেবল শারীরিক নিয়ন্ত্রণ নয়; এটি আত্মসংযমের অনুশীলন। খাওয়া-দাওয়া, মিথ্যা কথা, কটূক্তি, অভদ্র আচরণ, এবং ক্ষুধা বা রাগের প্রতি নিয়ন্ত্রণ-এগুলো রোজার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পায়। রোজা মানুষকে শিখায় কিভাবে দৈনন্দিন জীবনের লোভ, অহংকার ও অনৈতিক অভ্যাস থেকে নিজেকে বিরত রাখা যায়। এটি ধৈর্য্য, সংযম এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অনন্য শিক্ষা প্রদান করে।
মানবিক সংবেদন ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি
রোজা আমাদের শুধু আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানবিক গুণাবলীর বিকাশেও সাহায্য করে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অনুভূতি মানুষকে দারিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মী করে তোলে। এই উপলক্ষে দান-সদকা, দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা এবং সমাজসেবা রোজার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এটি মুসলিমকে নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং সামাজিকভাবে সচেতন করে তোলে।
আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলা ও নৈতিক উৎকর্ষ
রোজার মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবন আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলার মধ্যে আসে। প্রতিটি রোজা ইবাদত ও আত্মসংযমের মাধ্যমে মানুষের চেতনা, মনোবল ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সুসংহত করে। এটি তাকে আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য্য ও নৈতিক উৎকর্ষ অর্জনের পথে পরিচালিত করে।
বরকত ও নৈকট্য লাভ
রমজান মাসে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ বরকত বর্ষিত হয়। প্রতিটি রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। এ মাসে প্রচেষ্টা, ধৈর্য্য ও সৎকর্মের মাধ্যমে সমৃদ্ধি, শান্তি এবং আত্মিক প্রশান্তি অর্জন সম্ভব।
রোজা শুধুমাত্র খাদ্য ও পানীয়ের নিয়ন্ত্রণ নয়; এটি আত্মসংযম, ইবাদত, নৈতিক শিক্ষা, মানবিক সহমর্মিতা এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির মাস। এটি মুসলিমকে আল্লাহর প্রতি নিবেদিত করে, হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে এবং সমাজে ন্যায়, সংযম ও দায়িত্বশীলতার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে।
আপনার কমেন্ট